আমরা দৈনন্দিন জীবনে অনেকেই বিভিন্ন সময় কোমর ব্যথায় ভুগে থাকেন। হালকা, মাঝারি অথবা তীব্র ব্যথায় ভুগে দিনের পর দিন বহু দামী পাওয়ারফুল ব্যথার ওষুধ খেয়েও কোন উন্নতি পাচ্ছেন না।

তাদের জন্য বলছি,
কোমর ব্যথা কোন রোগ নয়, বা কোন জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয় না।
এটি একটি ম্যাকানিক্যাল সমস্যা যা শারীরিক পরিবর্তনের ফলে হয়ে থাকে। দীর্ঘ সময় যারা বসে/দাঁড়িয়ে কাজ করেন, তাদের এ সমস্যা বেশি হয়। কারণ, দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার সময় অনেক ক্ষেত্রে আমাদের বসার পজিশন সঠিক হয় না। ফলে ভুল পদ্ধতিতে বসার ফলে আমাদের মেরুদণ্ডের হাড়ের উপর এবং কোমরের মাংসপেশিতে কিছু পরিবর্তন আসে। এর ফলে কোমরের মাংসপেশি দুর্বল হয়ে শরীরের ভর ধরে রাখতে সমস্যা হয়, এতে মেরুদণ্ডে অধিক চাপ পড়ে। মেরুদণ্ডে চাপ পড়ার কারণে মেরুদণ্ডের হাড়ের মাঝখানে থাকা ইন্টারভার্টেব্রাল ডিস্ক পেছনের দিকে বের হয়ে মেরুদণ্ডের ডিস্কের পাশের নার্ভগুলোতে চাপ দেয়, এতে অনেকের ব্যথা পা পর্যন্তও চলে যায়। অনেকে আবার পায়ে অবশ বোধ, ঝিন ঝিন করাও বোধ করেন।

এখন প্রশ্ন হলো,
কোমর ব্যথায় সবচেয়ে ভাল চিকিৎসা কি?

আমাদের দেশের প্রায় ৮০% মানুষ কোমর ব্যথার সঠিক চিকিৎসা/পরামর্শ পান না। বেশিরভাগ মানুষ কোমর ব্যথার জন্য হাজার হাজার টাকার টেস্ট (MRI, X-ray, Blood Test) করিয়ে বছরের পর বছর ব্যথার ওষুধ খেয়ে থাকেন, কিন্তু এরপরও কিছুদিন ভাল থাকার পর আবার ব্যথা ফিরে আসে।

যেহেতু এটি একটি ম্যাকানিক্যাল সমস্যা, সেহেতু কোমরের হাড় ও মাংসপেশির স্ট্র‍্যাকচারাল উন্নতি না ঘটিয়ে শুধু ব্যথার ওষুধ দিয়ে ব্যথাকে দমিয়ে রাখলে এর স্থায়ী চিকিৎসা সম্ভব না। এছাড়া দীর্ঘদিন হাই পাওয়ারফুল ব্যথার ঔষধ সেবনে ধীরে ধীরে কিডনি বিকল হয়ে যেতে পারে।

তবে আশার কথা হলো, কোমর ব্যথায় সঠিকভাবে ম্যানুয়াল ফিজিওথেরাপি নিলে স্থায়ীভাবে এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসায় কিছু স্বীকৃত গবেষণা নির্ভর ম্যানুয়াল এক্সারসাইজ এর মাধ্যমে মেরুদণ্ডের হাড় ও মাংসপেশির অস্বাভাবিক অবস্থা থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

আসুন এ রকমই একটি ঘরোয়া এক্সারসাইজ শিখে নিই,

> ব্যাক এক্সটেনশন এক্সারসাইজ (Back Extension Excercise) :

* পদ্ধতি ১ : সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দু হাত পেছনে নিয়ে কোমরের নিচে রাখুন। এরপর ধীরে ধীরে শরীরের উপরিভাগ পেছন দিকে নিয়ে যান যতটুকু সম্ভব। ৫-১০ সেকেন্ড সেই পজিশনে থাকুন। তারপর আবার সোজা হয়ে যান। এভাবে ১০-১৫ বার মুভমেন্ট করুন। দিনে ২-৩ বার এই ব্যায়ামটি করুন।

* পদ্ধতি ২ : বালিশ ছাড়া বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। দুই কাঁধ বরাবর বিছানায় হাত রাখুন। দুই হাতে ভর করে পুশ আপের মতো করে দেহের উপরিভাগ উচু করুন। ৫-১০ সেকেন্ড এই অবস্থায় থেকে আবার শুয়ে পড়ুন। এভাবে ১০-১৫ বার এই মুভমেন্ট করুন। দিনে ২-৩ বার করতে পারেন এই এক্সারসাইজ।

আশা করি এই এক্সারসাইজ হালকা থেকে মাঝারি কোমর ব্যথায় ম্যাজিকের মতো কাজ করবে। কোন ব্যথার ওষুধ খেয়ে কিডনীর বারোটা বাজানোর দরকার নাই।

সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ।

– ইমন চৌধুরী
ফিজিওথেরাপিস্ট
ভিশন ফিজিওথেরাপি সেন্টার, উত্তরা, ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *