শীতের সঙ্গে ব্যথা বাড়া বা কমার প্রত্যক্ষ কোনও সম্পর্ক নেই৷ শীতে ব্যথা বাড়ে পরোক্ষ ভাবে৷ এইসময় নার্ভগুলো হাইপারসেনসিটিভ অর্থাৎ অতিরিক্ত মাত্রায় সংবেদনশীল হয়ে যায়৷ তার জন্য শীতে একটু চোট-আঘাত বা বাতের ব্যথা বেশি অনুভূত হয়৷ এর পাশাপাশি শীতে শারীরিক পরিশ্রম অনেকেই কমিয়ে দেন৷ বিশেষত বয়স্করা শীতে হাঁটা-চলার বদলে লেপ-কম্বলের নিচে থাকতেই বেশি পছন্দ করে, ফলে হাড়ের সংযোগস্থল আরও স্টিফ বা শক্ত হয়ে যায়, তখন ব্যথা বাড়ে৷

পূর্ণিমা বা অমাবস্যায় ব্যথা বাড়ার যেমন কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই, তেমনই শীতের সঙ্গে ব্যথা বাড়ারও সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই৷

শীতে নার্ভগুলো হাইপারসেনসিটিভ বা অতিরিক্ত মাত্রায় সংবেদনশীল হয়ে যায় কেন?

অন্য সময় নার্ভের স্টিমুলেট বা উদ্দীপ্ত হতে যে পরিমাণ সেনসিটিভিটি বা সংবেদনশীলতার প্রয়োজন হয়,শীতে তার চেয়ে অনেক কম স্টিমুলেটেই নার্ভগুলি হাইপারসেনসিটিভ বা অতিসংবেদনশীল হয়ে ওঠে৷ এটাই শীতে ব্যথা বাড়ার অন্যতম কারণ৷

শীতে কীভাবে এই ব্যথার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে?

১। কোনও রকম শারীরিক পরিশ্রম না করে শীতে জবু-থবু হয়ে বসে থাকবেন না৷ এতে জয়েন্ট বা সন্ধির প্রদাহ বাড়ে৷

২। ঠান্ডায় বাইরে না বেরোলেও ঘরের মধ্যেই হাঁটা-চলা ও ব্যায়াম করুন৷ এতে সন্ধির স্টিফ বা শক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমবে।

৩। জল খান বেশি করে৷ জল কম খেলে জলশূন্যতা থেকে প্রদাহ ও ব্যথা বাড়তে পারে।

৪। ঠান্ডায় শরীর অতিরিক্ত তাপ হারালে হাতেপায়ে রক্ত চলাচল কমে৷ এতেও ব্যথা বাড়তে পারে৷ তাই শরীর যাতে অতিরিক্ত তাপ না হারায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৫। গরম সেঁক দিলে ব্যথায় আরাম হয়৷ কারণ গরম কোনও কিছুর সংস্পর্শে এলে মাংসপেশি শিথিল ও রক্তনালি প্রসারিত হয়৷ ফলে ব্যথা থেকে আরাম মেলে।

৬। যাঁদের নিয়মিত আর্থারাইটিস এর চিকিৎসা ফিজিওওথেরাপি নিতে হয়, তাদের ব্যথা বাড়লে ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা বা ব্যায়াম করতে হবে।

শীতে ব্যথার ভয়ে কুঁকড়ে থাকলে ব্যথা কিন্তু আরও মাথাচাড়া দেবে৷ ব্যথা উপশমের পন্থাগুলোকে মেনে ব্যথা থেকে দূরে থাকুন আর উপভোগ করুন মাত্র কয়েক দিনের অতিথি শীতকে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *